দশম শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার নানা পদক্ষেপ

0

নিজস্ব প্রতিনিধি:

দেশের যুব সমাজকে কর্মমুখী করে তোলার জন্য ৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এজন্য কর্মমুখী প্রকৌশল শিক্ষা নামক তিনটি বই প্রণয়নের জন্য ইতোমধ্যে সিলেবাসের কাজ শেষ হয়েছে। এই বই তিনটি ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পড়ানো হবে। ইতোমধ্যে বইয়ের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ২০২১ সাল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

বুধবার (২১ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ তথ্য জানানো হয়। সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. আফছারুল আমীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সদস্য শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, এ কে এম শাহাজাহান কামাল, ফজলে হোসেন বাদশা, মো. আবদুস সোবহান মিয়া ও গোলাম কিবরিয়া টিপু এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কমিটি বৈঠকে উত্থাপিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষা ধারার (বিদ্যালয় ও মাদরাসা) সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ২০২১ সাল থেকে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাক-বৃত্তিমূলক ও বৃত্তিমূলক কোর্স চালু করার লক্ষ্যে কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এ পর্যন্ত কয়েকটি সভা করেছে। নবম-দশম শ্রেণির (বিজ্ঞান/মানবিক/ব্যবসায় শিক্ষা) শাখায় কারিগরি শিক্ষার বই বাধ্যতামূলক করার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ওয়ার্কশপ করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত সিলেবাস তৈরির জন্য প্রাথমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ২ মে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (কারিকুলাম)-এর সভাপতিত্বে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাক বৃত্তিমূলক ও বৃত্তিমূলক কোর্স চালু করার লক্ষ্যে সম্ভাব্য বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। বর্তমানে বই সম্পাদনের কাজ চলমান আছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মো. আফছারুল আমীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা আগের বৈঠকে মাধ্যমিক পর্যায়ে সাধারণ শিক্ষায় কর্মমুখী শিক্ষা চালুর সুপারিশ করেছিলাম। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে অগ্রগতি জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা সম্ভব হবে। এজন্য কর্মমুখী প্রকৌশল শিক্ষা ১, ২ ও ৩ নামক তিনটি বই প্রণয়নের জন্য সিলেবাস তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে প্রতিটি শ্রেণিতে প্রতি বছরের জন্য নির্ধারিত সিলেবাস শ্রেণি কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হয় কিনা তা মনিটরিং করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ ও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।

Share.

Leave A Reply