কাপাসিয়ার সনমানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষকের ঢাকায় রহস্যজনক মৃত্যু

0

রায়হান গাজী -কাপাসিয়া,গাজীপুর: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম এমপিও ভুক্তির জন্য ঢাকায় ডিজি অফিসে কাজ করতে গিয়ে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার সকালে মারা যায়।পরিবারের সদস্যরা রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে বলে দাবী করছেন।

লাশ ময়না তদন্ত শেষে মঙ্গলবার রাতে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা কয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানাযায়, আশরাফুল ইসলাম মাসুূদ ২০০৭ সালে সনমানিয়া উচ্চবিদ্যালয়ে আইসিটি বিষয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে এমপিওভুক্তি হন। পরবর্তীতে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সনদ জালের অভিযোগে এমপিও স্থগিত হলে সে হাইকোর্টে রিট করেন।মহামান্য  আদালত তাকে বকেয়া বেতন সহ এমপিওভুক্তির আদেশ প্রদান করেন।

সেপ্টেম্বর মাসের এমপিওতে তার নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা ছিলো। এমপিও নিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক গোলাম রাব্বানী ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আমিনুল হক মোল্লার সাথে  আশরাফুলের বিরোধ দেখা দেয়। গত ৫ বছর ধরে তিনি সত্য ও ন্যায়সঙ্গত অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কমিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনী লড়াই করে অবশেষে বিজয়ী হন। কিন্তু নানা ষড়যন্ত্রের কারণে তিনি এর সুফল দেখে যেতে পারেননি বলে সহকর্মী বন্ধুরা জানান।

আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী রুমা আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে  আশরাফুলকে প্রধান শিক্ষক টেলিফোন করে। পরে তিনি ভোরে ঢাকায় ডিজি অফিসে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে রওয়ানা হন।

এদিকে প্রধান শিক্ষক গোলাম রাব্বানী জানান, আমি বৃহস্পতিবার ডিজি অফিস ও বোর্ড অফিসে কাজ করতে নরসিংদী হয়ে ঢাকায় যান। ঢাকা থেকে ফেরার পথে নরসিংদীর পাঁচদোনায় আসলে পুলিশ আশরাফুল মাস্টারের আহত হওয়ার খবর দেয় এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করি।তবে আশরাফুল মাষ্টার ঢাকায় যাবে সেই বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।

আশরাফুল মাস্টার আহত হওয়ার খবর পুলিশ আপনাকে কীভাবে দিল- এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক গোলাম রাব্বানী বলেন, সকাল ১১ টায় আশরাফুলকে কমলাপুর রেলস্টেশনে আহত অবস্থায় পুলিশ উদ্ধার করে মুগ্ধা হাসপাতালে নিয়ে যায়। আশরাফুলের ব্যাগে থাকা স্কুলের কাগজ – পত্রে আমার নাম ও মোবাইল নম্বর পেয়ে পুলিশ আমাকে টেলিফোন করে আহত হওয়ার খবর দেয়। পরে আমি ঢাকায় গিয়ে রাত সাড়ে সাতটায় মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। সোমবার সকালে সে মারা যায়।

এ দিকে আশরাফুলের এক নিকট আত্মীয় জানান, আশরাফুলের মৃত্যু রহস্যজনক। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার মাথায় দুটি বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের অন্য কোথাও কোন আঘাতের চিহ্ন নেই। মুগ্ধা হাসপাতালে আশরাফুলকে যখন নেয়া হয় তখন তার কিছুটা জ্ঞান ছিল। সেই হাসপাতালে কাপাসিয়ার এক নার্স ছিল। নার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে পরিবারের লোকজন বলেন, মুগ্ধা হাসপাতালে আশরাফুলের সর্বশেষ কথা বলছিলেন “ওরা আমাকে মেরে ফেলবে, আমাকে বাঁচান”এটাই ছিল তার শেষ কথা। পরে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তার জ্ঞান ফিরেনি। আশরাফুলের ঢাকায় মৃত্যু নিয়ে পরিবারের সন্দেহ হয়।

এ কারণেই   লাশের পোস্টমর্টেম হয়। মঙ্গলবার রাত ১০ টায় কাপাসিয়ার ইকুরিয়ার গ্রামের বাড়িতে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়েছে। আশরাফুল স্ত্রী ও ২ টি পুত্র সন্তান রয়েছে। তার রহস্যময়  মৃত্যুতে পরিবার, এলাকা ও শিক্ষক মহলে শোকের ছায়া বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী ও পরিবারের স্বজনদের প্রশাসনের কাছে দাবি,এই হত্যাকান্ডের সাথে যারাই জড়িত থাক সুষ্ট তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।

Share.

Leave A Reply