ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাংবাদিকদের আপত্তি

0

সংসদে প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের অন্তত আটটি ধারায় গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের আপত্তি ছিল। তবে এসব আপত্তির সুরাহা না করেই সোমবার সন্ধ্যায় সংসদে এ আইনের প্রতিবেদন উপস্থাপন করেছে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। সংসদীয় কমিটির সভাপতি ইমরান আহমেদ বিলের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করেন। এই বিলে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের প্রসঙ্গ এনে বিল উত্থাপনকালে তিনি বলেছেন, গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের বক্তব্য সন্নিবেশ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা হয়েছে। এই বিলটি পাস হলে তা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় ভূমিকা রাখবে। তবে আইনটি সংশোধনীর বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে চূড়ান্ত বৈঠক হওয়ার আগেই আইনের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করায় সংশোধনীতে সাংবাদিকদের মতামত প্রতিফলিত না হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এদিকে সংসদে রিপোর্ট উপস্থাপনের আগেই রিপোর্টের সুপারিশগুলো নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সম্পাদক পরিষদ গতকাল রবিবার এক বিবৃতি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আর

সোমবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সংসদে আইনটির প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর সম্পাদক পরিষদ ও সাংবাদিক নেতাদের কয়েকজন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
তারা বলেছেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সংশোধনীর বিষয়ে চূড়ান্ত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই আইনের প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন করা হলো। ফলে এই আইনের সংশোধনীতে সাংবাদিকদের মতামত প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে হয় না। তাই তাড়াহুড়া করে যেন আইনটি পাস করা না হয় সে দাবি জানানো হয়েছে। যেসব ধারায় সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব হয় যেসব ধারা সংশোধন করে আইনটি সংসদে পাস করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা। আইনটি পাসের পর সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি হলে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামের হুমকিও দিয়েছেন নেতারা। তবে তার আগে সাংবাদিক নেতাদের দাবি, সাংবাদিকদের ওপর অপপ্রয়োগ যাতে না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা রেখেই যেন আইনটি চূড়ান্ত করা হয়।’
চূড়ান্ত বৈঠকের আগেই সংসদে প্রতিবেদন উপস্থাপন দুঃখজনক
মনজুরুল আহসান বুলবুলমনজুরুল আহসান বুলবুল
একুশে টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে আমাদের আপত্তি ওঠার পর তা সংশোধনের জন্য তিনটি বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম বৈঠকে আইনটি নিয়ে সার্বিক একটি পর্যালোচনা হয়েছিল। দ্বিতীয় বৈঠকে আমাদের কী কী আপত্তি তা জানিয়েছিলাম। এরপর আইন মন্ত্রণালয় থেকে সেগুলো পর্যালোচনা করে সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যানসহ টেলিযোগাযোগমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ অন্যদের সঙ্গে আমাদের একটি চূড়ান্ত বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এ বিষয়ে আমাদের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত বৈঠক করবেন বলে কথাও দিয়েছিলেন। আমরা চেয়েছিলাম তৃতীয় বৈঠকটি হলে আমরা একটা ভালো অবস্থানে যাব। কিন্তু দুঃখজনকভাবে চূড়ান্ত বৈঠকটি হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘আইনের প্রতিবেদনের কপি এখনও হাতে পাইনি। তবে আমরা গভীরভাবে হতাশ হয়েছি। কারণ আমাদের সঙ্গে তৃতীয় ও চূড়ান্ত বৈঠক না করেই সংসদে বিলটি উপস্থাপন করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত মতামত প্রতিফলিত হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয় না। এছাড়া আমাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে কিন্তু ৩২ ধারায় যেটা নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল সেখানে সংশোধন হয়েছে ঠিকই কিন্তু সেটাকে আরও গুরুতর করা হয়েছে।’
মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আমরা এই আইনটির কখনই বিপক্ষে নই। আইনটি দিয়ে জঙ্গি ধরা হোক, সন্ত্রাসী ধরা হোক। কিন্তু আমাদের প্রস্তাবনা ছিল, এ সংক্রান্ত অভিযোগ কোনও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে আসলে তখন সেটা যেন প্রথমে প্রেস কাউন্সিলে পাঠানো হয়। সেখানে সরকারের প্রতিনিধি, সংসদের প্রতিনিধি, সম্পাদকের প্রতিনিধি, সাংবাদিকদের প্রতিনিধি যাচাই-বাছাই করে তারপর একটা ক্লিয়ারেন্স দিলে তবেই ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, এমন করা হোক।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন ৫৭ ধারা সাংবাদিকদের ওপর প্রয়োগের ভয়াবহতা শুরু হলো তখন প্রধানমন্ত্রী ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একটি নির্দেশ দিয়েছিলেন। সাংবাদিকদের ওপর ৫৭ ধারা ব্যবহার করতে চাইলে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে, এমন বলা হয়েছিল ওই নির্দেশে। এরপর কিন্তু সাংবাদিকদের ওপর এর প্রয়োগ কমে গেল। ফলে আমরা চেয়েছিলাম এই আইটির ৩২ ধারার ক্ষেত্রেও সাংবাদিকদের ওপর পেশাগত দিক থেকে প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন ব্যবস্থা থাকুক। কিন্তু বর্তমানে যে পরিস্থিতি দেখছি তাতে আমাদের হতাশার জায়গাটি থেকেই যাচ্ছে।
মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আমি আশঙ্কা করছি, সাংবাদিকদের ওপর এই আইনের অপপ্রয়োগ হতে পারে- এক ধরনের ভীতি, শঙ্কা থেকেই গেল। তবু আমরা সংসদের কাছে আবেদন জানাই, চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এই আইনে সাংবাদিকদের ওপর অপপ্রয়োগ যাতে না হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা রেখেই যেন চূড়ান্ত করা হয়।’

তাড়াহুড়া করে আইনটি যেন পাস করা না হয়
নঈম নিজামনঈম নিজাম
সম্পাদক পরিষদের সদস্য ও বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে প্রস্তাবিত এই আইনটি প্রত্যাখ্যান করেছি। আমরা মনে করি যদি এই আইনটি পাস করা হয় তাহলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাড়াহুড়া করে এই আইনটি যেন পাস করা না হয়-এটিই আমাদের দাবি।’

সংশোধনী এনে আইনটি পাস করা হোক
শাবান মাহমুদশাবান মাহমুদ
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাংবাদিক নেতারা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায় যে সুপারিশ করেছিলেন এই আইনটি সংশোধনীর ক্ষেত্রে তার কোনটাই গ্রহণ করা হয়নি। আইনটির বিভিন্ন ধারা গণমাধ্যমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য খুব সূক্ষ্মভাবে যেসব ধারা রাখা হয়েছে আমরা তার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু আমাদের আপত্তি থাকা সত্ত্বেও এই আইনটি সংসদের উপস্থাপন করা হলো।’
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধা দিয়ে এই আইনটি চূড়ান্ত হতে আমরা দেব না। আমাদের প্রস্তাব থাকবে সংসদে পাস হওয়ার আগে যেসব জায়গায় সংশোধনের সুযোগ রয়েছে সেসব জায়গায় সংশোধনী এনে আইনটি পাস করা হোক। নতুবা সাংবাদিক সমাজ এটা প্রত্যাখ্যান করবে। ইতোমধ্যে সাংবাদিক সমাজ ও সম্পাদক পরিষদ এটাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা এই আইনটি বাতিলের দাবি জানাই। অন্যথায় প্রয়োজনে সাংবাদিক সমাজ আবারও রাস্তায় নামবে, আন্দোলন-সংগ্রাম করবে। আমরা এমন কোনও কালো আইন দেখতে চাই না যা পেশাগত দায়িত্ব পালন বাধার মুখে ফেলে। সাংবাদিকদের হয়রানি বা নির্যাতনের সুযোগ রেখে আইনটি পাস করলে আমরা তার প্রতিবাদ জানাবো।’
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জানুয়ারি ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮’ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। বহুল আলোচিত এই আইনের খসড়া আইনসভার অনুমোদনের জন্য গত ৯ এপ্রিল সংসদে উত্থাপন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। এই বিলটি চলতি অধিবেশনে পাস হবে বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছিলেন। চলতি অধিবেশন ২০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই অধিবেশন ছাড়া অক্টোবর মাসে দশম সংসদের আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। সেই বৈঠকটি হবে নির্বাচনের আগে শেষ অধিবেশন।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের যেসব ধারায় গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের আপত্তি
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিষয়ে দুই দফায় সম্পাদক পরিষদ, টেলিভিশন মালিকদের সংগঠন অ্যাটকো ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সঙ্গে বৈঠক করে সংসদীয় কমিটি। সংসদীয় কমিটিকে খসড়া আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ধারার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আপত্তি জানায় সম্পাদক পরিষদ।
প্রস্তাবিত আইনের ৮ ধারায় ছিল, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্ত ডিজিটাল নিরাপত্তার ক্ষেত্রে হুমকি সৃষ্টি করলে ওই তথ্য-উপাত্ত অপসারণ বা ক্ষেত্রমতে ব্লক করার জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সি অনুরোধ করতে পারবে।
ওই ধারায় আরও বলা হয়েছে, যদি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে মনে হয় যে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য দেশের বা দেশের কোনও অংশের সংহতি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, ধর্মীয় মূল্যবোধ বা জনশৃঙ্খলা ক্ষুণ্ন করে বা জাতিগত বিদ্বেষ ও ঘৃণার সঞ্চার করে তাহলে বাহিনী ওই তথ্য-উপাত্ত অপসারণ করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মাধ্যমে বিটিআরসিকে অনুরোধ করতে পারবে।
এই ধারায় পরিবর্তনের জন্য সম্পাদক পরিষদ সংসদীয় কমিটিতে প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে এখানে কোনও পরিবর্তন আনেনি কমিটি। সংসদীয় কমিটির সুপারিশে এই বিলে প্রয়োগ সংক্রান্ত বিধানে শর্ত যুক্ত করে বলা হয়েছে, ‘তবে শর্ত থাকে যে তথ্য অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ের ক্ষেত্রে তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ এর বিধানবলী কার্যকর থাকবে।’
সংসদে উত্থাপিত বিলে ১৮ ধারায় কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার সিস্টেমে বেআইনি প্রবেশে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং তিন লাখ টাকার বিধান ছিল। সংসদীয় কমিটি এখানে শাস্তি কমিয়ে ছয় মাস কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা দণ্ডের বিধান রেখেছে।
বিলের ২১ ধারায় মুক্তিযুদ্ধ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বা জাতির পিতার বিরুদ্ধে প্রচারণা বা প্রপাগান্ডার দণ্ডের বিধানের অংশে সংসদীয় কমিটি ‘জাতীয় সংগীত বা জাতীয় পতাকা’যুক্ত করার সুপারিশ করেছে। এখানে শাস্তি কমানোরও সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। এখানে আগে ১৪ বছরের জেল বা এক কোটি টাকা কিংবা উভয়দণ্ডের বিধান ছিল। সংসদীয় কমিটি ১০ বছরের কারাদণ্ড করার সুপারিশ করেছে।
২৫ ধারায় বলা ছিল, যদি কোনও ব্যক্তি ইচ্ছা করে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনও ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কোনও তথ্য প্রকাশ করে যা আক্রমণাত্মক, ভীতি প্রদর্শন বা কাউকে নীতিভ্রষ্ট করে বা বিরক্ত করে; অপমান, অপদস্ত বা হেয় করে; রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বা সুনাম ক্ষুণ্ন করতে বা বিভ্রান্ত করতে কোনও তথ্য সম্পূর্ণ বা আংশিক বিকৃত করে প্রকাশ বা প্রচার করে তবে তা অপরাধ হবে।
এই ধারার চারটি উপধারাকে ছোট করে দুটি উপধারা করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। তবে মূল বক্তব্য প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। ২৮ ধারায় ধর্মীয় মূল্যবোধ বা অনুভূতিতে আঘাত করার বিধানে শাস্তি কমানোর সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। সংসদে উত্থাপিত বিলে সাত বছরের জেল বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান ছিল। সংসদীয় কমিটি জেল কমিয়ে ৫ বছর করার সুপারিশ করেছে।
মানহানিকর তথ্য প্রচার নিয়ে ২৯ ধারায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে আপত্তি করা হলেও সেখানে কোনও পরিবর্তন আনেনি সংসদীয় কমিটি। বিলে ৩১ ধারায় আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে এমন তথ্য প্রচারের বিষয়ে পরিবর্তন করার দাবি জানায় সম্পাদক পরিষদ। এক্ষেত্রেও সংসদীয় কমিটি কোনও পরিবর্তন আনেনি।
সংসদে উত্থাপিত বিলের ৩২ ধারা নিয়ে সাংবাদিক মহলের সবচেয়ে বেশি আপত্তি ছিল। ওই ধারায় সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কেউ যদি বেআইনিভাবে প্রবেশ করে কোনও ধরনের তথ্য-উপাত্ত, যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে গোপনে রেকর্ড করে, তাহলে সেটা গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ হবে এবং এ অপরাধে ১৪ বছর কারাদণ্ড ও ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডর বিধান রাখা হয়েছে।
এখানে সংসদীয় কমিটি পরিবর্তন করার সুপারিশ করেছে। কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, ‘যদি কোনও ব্যক্তি ‘দাফতরিক গোপনীয়তা আইন-১৯২৩ এর আওতাভুক্ত কোনও অপরাধ কম্পিউটার, ডিজিটাল ডিভাইস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা অন্য কোনও ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত করে বা করতে সহায়তা করে তাহলে তিনি সর্বোচ্চ ১৪ বছরের কারাদণ্ড বা ২৫ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
সংসদে উত্থাপিত বিলে এই আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের জন্য বিনা পরোয়ানায় তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারে পুলিশকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল। সংসদীয় কমিটি এখানে ডিজিটাল নিরাপত্তা এজেন্সির মহাপরিচালকের অনুমোদন সাপেক্ষে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের বিধান রাখার সুপারিশ করেছে।

Share.

Leave A Reply