সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিল, মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

0

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা।  বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শফিউল আলম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের যে সুপারিশ করেছিল সরকারি কমিটি, তাতে অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। অর্থাৎ ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত চাকরিতে কোনো কোটা থাকবে না। এসব পদে নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। বুধবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন হয়। পরে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।

কোটা বাতিলের অনুমোদন মন্ত্রিসভায় পাসের মাধ্যমে কোটা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হলো। যেকোনো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তা চূড়ান্ত রূপ পাবে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোটা নিয়ে তাঁর নেতৃত্বে যে কমিটি করা হয়েছিল, তাতে তিনটি সুপারিশ করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্রথম সুপারিশটি ছিল ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া। দ্বিতীয় সুপারিশটি ছিল ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা এবং তৃতীয় সুপারিশটি ছিল কোটা বাতিলের ফলে বিদ্যমান কোটার সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক অবস্থার ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ প্রভাব সম্পর্কে নির্দিষ্ট সময়ে পর্যালোচনা করে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে যথোপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া। অর্থাৎ, প্রথম দুটি সুপারিশের সারমর্ম হলো, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে কোনো কোটা পদ্ধতি থাকবে না। এসব পদে নিয়োগ হবে সরাসরি মেধার ভিত্তিতে। তৃতীয় সুপারিশটির ব্যাখা হলো, সময়ের প্রেক্ষাপটে যদি কোনো পরিবর্তন দেখা দেয় যে কোটা অপরিহার্য, তবে সরকার ব্যবস্থা নিতে পারবে। বিষয়টি অনগ্রসর সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

আজকের মন্ত্রিসভায় এসব সুপারিশ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। তবে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে বিদ্যমান কোটা বহাল থাকবে বলে জানান তিনি।

কোটা বাতিলের প্রজ্ঞাপন কবে জারি হবে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভার এ সিদ্ধান্ত আজকালের মধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দেওয়া হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করবে। তবে বেশি সময় লাগবে না বলে জানান তিনি।

সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলে সরকারি কমিটি যে সুপারিশ করেছিল, তা আজ মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওঠে। মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে গঠিত সরকারের কমিটি ৯ম থেকে ১৩তম গ্রেডে (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) কোনো কোটা না রাখার সুপারিশ করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিটি এসব পদে সরাসরি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের সুপারিশ করেছে।

প্রথম শ্রেণির চাকরি শুরু হয় ৯ম গ্রেড দিয়ে। এর ওপরের পদগুলো সাধারণত পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ হয়। আর দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরি ১০ম গ্রেড থেকে ১৩তম গ্রেডের মধ্যে। ব্যতিক্রম ছাড়া শুরুর পদেই নিয়োগ হয় এবং সেখানেই কোটা নির্ধারিত হয়।

প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে বর্তমানে ৫৫ শতাংশ নিয়োগ হয় অগ্রাধিকার কোটায়। বাকি ৪৫ শতাংশ নিয়োগ হয় মেধা কোটায়। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতেও আছে বিভিন্ন ধরনের কোটা। সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে গত মার্চ মাসে পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা করে। পরে গত ৮ এপ্রিল ঢাকার শাহবাগে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ লাঠিপেটা করলে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুড়ে মারলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার পরদিন এই আন্দোলন সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা বাতিলের ঘোষণা দেন। এরপর কোটা সংস্কার, বাতিল বা পর্যালোচনার জন্য কমিটি গঠন করেন।

Share.

Leave A Reply